Posts

কিছু কুয়াশা আর একটা লাল ক্যাকটাস

নিচে দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম। একটা টেক্সট আসলো। "কোথায় আপনি ? কি করেন ?" আয়েশ করে টান দিতে দিতে লিখলাম , " সিগারেট খাই। তোমার বাড়ির নিচে।" উত্তর আসলো , " আমারো খেতে ইচ্ছা করছে। পচা পচা গান ছাড়ছে। বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাবস্থা করেন।" আমি লিখলাম , " টেক্সট দেওয়া বন্ধ করো। যারা তোমার গায়ে হলুদ লাগাচ্ছে , তাদের অন্তত প্যারা দেওয়া বন্ধ করো।" আমি নিশ্চিত , রুবা আমার এই টেক্সট পরে খিলখিল করে হাসছে। কেমন একটা বেমানান ব্যাপার! সে হলুদ শাড়ি পরে সবার মধ্যমণি হয়ে বসে আছে। সবাই এক এক করে এসে তার গালে হলুদ লাগিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আর সে আমার টেক্সট পরে খিলখিল করে হাসছে। রাত বাজে প্রায় ১১ টা। হলুদ অনুষ্ঠান প্রায় শেষ। এখন মনে হয় রুবার হাতে মেহেদী লাগানো হবে। কালকের জন্য। কাল ওর বিয়ে। আমি সিগারেটের শেষ টান দিতে দিতে ভাবলাম , লেখকদের জন্য কি প্রেমে পড়া খুব জরুরী ? স্টেজ ফাঁকা। রাত বেশ হয়েছে। একটা মেয়ে রুবার হাতে মেহেদী লাগিয়ে দিচ্ছে। আমি স্টেজের সামনে গিয়ে বসলাম। রুবা আমাকে দেখে একটা হাসি দিলো। এই হাসির কোনো অর্থ নেই। সেটা জেনেও আমি সেই হাসির অর্থ খুঁজে বের ...

Into the Wild (2007)

Image
  NO SPOILER এই সিনেমাটা তাদের জন্য, যারা ভাবেন, এইসব নিয়ম-কানুন, যান্ত্রিকতা, ব্যাখ্যাহীন সম্পর্ক ছেড়ে দূরে কোথাও যেতে পারতাম! একেবারে প্রকৃতির খুব কাছে। একেবারে স্বাধীন। কোনো টাকা নেই, কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো স্মার্ট ডিভাইস নেই। শুধু আমি আর প্রকৃতি। হ্যাঁ, এমনটা মাঝে মাঝে কিংবা সব সময় যারা ভাবেন তাদের জন্য এই সিনেমা মাস্ট ওয়াচ। সিনেমাটি একটি সত্য ঘটনার উপর নির্মান করা। ক্রিস্টোফার জনসন মেকিন্ডলেস ১৯৯০ সালে পড়াশুনা শেষ করে সিদ্ধান্ত নেন তিনি প্রকৃতির সন্ধানে যাবেন। হেটে বেড়াবেন, খুঁজে বেড়াবেন নিজের স্বত্বাকে, নিজের অস্তিত্বকে। তখন তার বয়স ছিলো ২২ বছর। তার নিজের সেভিংস ছিলো ২৪,০০০ ডলার যেটা তিনি দান করে দেন কোনো এক চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে। তারপর তিনি তার গাড়ী নিয়ে নেমে যান রাস্তায়। যাত্রার শুরুতেই গাড়ী নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ী ফেলে রেখে তিনি ব্যাগ নিয়ে পায়ে হাঁটা শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিলো আলাস্কা যাবেন। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।   প্রকৃতির সাথে একা যুদ্ধ করা খুব একটা সহজ কথা না। সেটা তিনি বুঝতে পারেন একটু দেরিতেই। শুরুতে সময় আনন্দে কাটলেও একসময় বুঝতে পারেন সমাজ কি জন্য সৃষ্টি...

ফ্রেমে বন্দী বিকেল

রাশেদকে ঘুম থেকে তোলা যাচ্ছে না। দুইদিন ধরে সে ঘুমিয়ে আছে। মেসের বড় ভাই, মিরাজ তাকে ডেকেই যাচ্ছে। না পেরে এক জগ পানি এনে রাশেদের গায়ে ঢেলে দিলো। রাশেদ ভ্রু কুচকে আধো চোখে মিরাজের দিকে তাকালো। মিরাজ বললো, “তোকে দুই দিন ধরে ডাকতে ডাকতে পাগল হয়ে গেছি। ওঠ। দিন দুনিয়ায় কি তোকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই?”বলেই চেয়ার টেনে নিয়ে রাশেদের সামনে বসলো। রাশেদ কাঁচা ঘুম চোখে উঠে বসলো। ঝিমাতে ঝিমাতে বলল, “আমাকে ডেকে তোলা কি খুব দরকার ছিল? আমি কি আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম?” মিরাজ বলল, “দরকার ছিল। এক ভদ্রলোক দুইদিন ধরে তোকে খুঁজছে। গত পরশুদিন আসছে। বিদায় করেছিলাম, আবার এসেছে। আমাকে অতিষ্ঠ করে ফেলছে। তার সাথে দেখা কর। কি দরকার দেখ। দেখে বিদায় কর। আমি গেলাম। আবার ঘুমাস না যেন।” রাশেদ বলল, “কোথায়?” “আমার রুমে আছে।” বলেই মিরাজ বের হয়ে গেলো। রাশেদ ভেজা কাপড় পাল্টে, হাই তুলতে তুলতে মিরাজের রুমে গেলো। সাদা পাঞ্জাবী পড়া একজন ভদ্রলোক চেয়ারে বসে আছেন। বয়স ৬০ এর কাছাকাছি হবে। মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি। দীর্ঘ ক্লান্তভাব। সেই ক্লান্তি ভাব কাটিয়ে রাশেদকে দেখে সে খুশি হয়েছে এমন একটা...

কোনো এক বর্ষায়

তখন ঝুম বর্ষা হচ্ছে। আমি পারমিতাকে নিয়ে দাড়িয়ে আছি একটা বাড়ির গেটের সামনে। আমাদের মাথার উপর কংক্রিটের ছোট ছাউনি। কোনো মতে বর্ষা থেকে রক্ষা। আমার কাছে স্বর্গ। খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে আমরা। কিছুক্ষণ আগে পারমিতা কাঁদছিল। তার চোখের জলে কাজল লেপটে আছে। অদ্ভুত লাগছে দেখতে। অদ্ভুত লাগার মত কোনো ব্যাপার না। তারপরেও মুগ্ধ হয়ে দেখছি। ওর সব কিছুই খুব অদ্ভুত। খুব গভীর ভাবে যখন সে ভাবে তখন তার দুই ঠোটে কিছু ভাজ পড়ে। আমি অবাক হয়ে দেখি। ঠোটে পড়া সামান্য ভাজ এত অদ্ভুত হয় কিভাবে? কিংবা মাঝে মাঝে চোখের পাপড়িতে ভাজ পড়ে। ও যখন চোখ বন্ধ করে, আমি তাকিয়ে থাকি। বর্ননা করার ভাষা পাই না। পারমিতা মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে বর্ষার ফোটা পড়া দেখছে। তবে এখন আর কাঁদছে না। আর আমি নির্লজ্জের মত দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাকে দেখছি। এটা নিয়ে অবশ্য ওর এখন আর কোনো মাথা ব্যাথা নেই। একবার ঝাড়ি দিয়ে বলেছিল, "এ তোর সমস্যা কিরে? এভাবে কি দেখিস? প্রত্যেকদিন আমার দিকে এভাবে তাকায় থাকার কোনো মানে আছে?" আমি দাত বের করে এক গাল হাসি দিয়ে বলেছিলাম, "তুই বুঝবি নারে। তুই বুঝবি না।" এখন আর কিছু বলে ন...

হঠাৎ বর্ষা, ভালোবাসার বর্ষা

নাটকের জন্য লিখেছিলাম। নাটক শুট করা হয়েছে। এখনো এডিট করা হয়নি। জুপন চন্দ্রাহত নামের একটা বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে। বাড়ির নামটা সুন্দর। চন্দ্র দেখে আহত। এই বাড়িতে লামিয়া থাকে। সে আজ লামিয়াকে তার ভালোবাসার কথা বলবে। কয়েকদিন আগে সে লামিয়াকে দেখেছে। প্রেম ভালোবাসা থেকে সে আজীবন দুরেই থেকেছে। কিন্তু এই মেয়ের জন্য আজ সে বেয়াহার মতো সেই মেয়ের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে। এখন সকাল। একটু আগে জানালায় লামিয়ার সাথে চোখাচোখি হয়েছে। বাড়ির দারোয়ান কে বলেছে সে লামিয়ার সাথে কথা বলতে চায়, এই খবর ভিতরে চলে গেছে। বাড়ির সবাই একবার করে এসে দেখে যাচ্ছে জুপনকে। রোগা জীর্ণশীর্ণ একটা ছেলে। চুল উস্কখুস্ক। দেখেই বোঝা যায় বেকার। কিংবা ভিক্ষুক শ্রেণীর কেউ। সবাই একবার করে দেখছে আর মুখ বাকাচ্ছে। সব থেকে বেশি অবাক হয়েছে লামিয়া। সে এই ছেলেকে চেনেনা। ওই দিকে তার ভাই সুজন তাকে জেরা করেই যাচ্ছে সে চেনে কিনা। লামিয়া বারবার একটা কথাই বলছে যে সে চেনেনা। লামিয়াদের বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে সুজন আর জুপন বসে আছে। সুজন আর জুপনের মধ্যে কথা হচ্ছে। সুজনঃ আপনি কে? জুপনঃ আমি জুপন। সুজনঃ লামিয়া কে চেনেন? জুপনঃ না চিনিন...

একটি ইন্টার্ভিউ বোর্ড

কি নাম? - সিরাজুল ইসলাম। নাম তো দেখি সেকালের। - জ্বি স্যার। আমার জন্ম ১৯৮৮ সালে। টেবিলের ওপাশে বসা ভদ্রলোকটি চশমার ফাক দিয়ে ক্যান্ডিডেটের দিকে তাকালো। তারপর চোখ নামিয়ে হাতের ফাইলটা খুললো। ফাইলটা খুলতে খুলতে বললো, "প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে এত কম সিজিপিএ কেন?" - প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলে মেয়েরা তো পড়াশুনা করেনা। তাই কম নাম্বার পায় আর কি। কথা তো ভালই শিখেছ। তুমি যে ইন্টার্ভিউ বোর্ডে আছো। সেই খেয়াল আছে? - জ্বি স্যার। অবশ্যই আছে স্যার। কি করবো স্যার বলেন, জবানটাই তো আছে। কথা না বললে তো আর ভাত জুটবে না। এমবিএ টা অন্তত পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে করতে পারতে। - জ্বি স্যার, ভুল হয়ে গেছে। ওরা আমার জন্য একটা সিট খালি রেখেছিলো। ইস কেন যে গেলাম না। ভদ্রলোকের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। কঠিন কিছু একটা বলতে যাবেন, তখন তার একটা কল আসলো। ফোনটা হাতে নিয়েই খুশিতে নড়েচড়ে বসলেন। ওপাশ থেকে কি বলছে শোনা গেলনা। শুধু এপাশ থেকে ভদ্রলোক স্যার স্যার করে গেলেন। দীর্ঘ ২ মিনিট কথা বলার পড়ে ফোন রাখলেন এবং ক্যান্ডিডেটের দিকে বিরক্ত নিয়ে তাকালেন। কি যেন নাম বললে তোমার? - স্যার, সিরাজুল ...

বাবা

সেসব কন্যাদের জন্য যারা তাদের প্রিয় বাবকে হারিয়েছে। বাবার ভালোবাসা অন্য জিনিস। মাপা যায় না। বর্ননা করা যায় না। অনুভব করতে হয়। পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে তবে একজন খারাপ বাবা নেই। সাফায়েত সাহেব তার মেয়েকে নিয়ে পুকুর পাড়ে বসে হো হো করে হাসছেন। তার মেয়ে পুতুল। দেখতেও পুতুলের মত। সবে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। বিরাট চঞ্চল। সারাদিন হৈ চৈ করে বেড়ায়। পুকুর ভালোবাসে। এই কিছুক্ষণ আগে পুতুলের মা আয়েশা পুতুলকে পুকুরে নামার জন্য বকা দিয়েছেন। এই নিয়ে নাকি আজ সে পাঁচবার পুকুরে নেমেছে। বাবা কিছু বলেননা। অনেক বেশি ভালোবাসেন পুতুলকে। পুতুল আনন্দ করে আর বাবা মুগ্ধ হয়ে দেখেন। মাঝে মাঝে যখন তার মা এই নিয়ে বকা ঝকা করেন তখন তিনি হো হো করে হাসেন। পেটে আগুন্তক নিয়ে পুতুলের মা খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন মেয়েকে নিয়ে। কিন্তু কে শোণে কার কথা?  পুকুর পাড়ে বসে সাফায়েত সাহেব তার মেয়েকে বললেন, “তোকে না কতবার বারণ করেছি যখন তখন পুকুরে না নামতে, নামিস কেন?” পুতুল বলল, “বাবা, পুকুর ভালো লাগে, পুকুরের পানিতে লাফাতে আরও বেশি ভালো লাগে। আমি কি করবো?” সাফায়েত সাহেব হেসে দিয়ে বললেন, “ঠাণ্ডা বাধাবি তো।” ...